মেট্রো রেল এবং বিআরটি প্রকল্পের নির্মান কাজের উদ্বোধন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার বহুল প্রত্যাশিত দেশের প্রথম মেট্রো রেল ‘ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট-এমআরটি, লাইন-৬’ ও ‘বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন।
মেট্রোরেল ও প্রথম বিআরটি নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘যেসব উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নেয়া হয়েছে সেগুলো দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করে দেশের জনগণকে আমরা আরও সুন্দরভাবে চলাচলের সুযোগ করে দিতে সক্ষম হব।’
তাঁর সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন কর্মসূচির উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থানের জন্য বাংলাদেশ হবে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন রচনার জায়গা। সেদিক থেকে বাংলাদেশের গুরুত্ব অপরিসীম।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট-(এমআরটি) লাইন-৬’ ও ‘বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি)’র উদ্বোধন উপলক্ষে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর যানজট পরিস্থিতি বিবেচনা করেই ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় উত্তরা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার এলিভেটেড মেট্রোরেল নির্মাণের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। উত্তরা ৩য় পর্ব থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ২০১৯ সালে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত ২০২০ সালে মেট্রোরেল চলবে।
প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত যোগাযোগমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন যেন, ২০১৯ সালেই প্রকল্পটি আগারগাঁও নয়, ফার্মগেট পর্যন্ত সম্পন্ন হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ লাইনে মহানগরীর ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্টেশন থাকবে। এতে প্রতিঘন্টায় উভয় দিকে ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করবে এবং উত্তরা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত মাত্র ৩৮ মিনিটেই পৌঁছাতে পারবে। আজ থেকে এমআরটি লাইন-৬ এর নির্মাণ কাজ শুরু হচ্ছে।
অনুষ্ঠনে আরো বক্তৃতা করেন- বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত মাসাতো ওয়াতানাবে এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব এম. এ. এন সিদ্দিক অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, কূটনৈতিক মিশনের সদস্যগণ, সরকারি, সামরিক ও বেসামরিক পর্যায়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতবৃন্দ, উন্নয়ন সহযোগী দেশের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে সুইচ চেপে মেট্রো রেল এবং মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট প্রজেক্টের ফলক উন্মোচন করেন। পরে এক বিশেষ মোনাজাতেও তিনি অংশগ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সমস্ত দেশজুড়েই সড়ক, মহাসড়ক, সেতু, ফ্লাইওভার, পাতাল সড়ক, মেট্রো রেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, রেল, নৌ-সহ যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণে ব্যাপক পদক্ষেপ হাতে নিয়েছি।
ঢাকা শহরের পূর্ব-পশ্চিম অংশের সংযোগসহ একটি সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে স্ট্রাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান হাল-নাগাদ করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর সুপারিশ অনুযায়ী এয়ারপোর্ট-খিলক্ষেত-বারিধারা-বাড্ডা-রামপুরা-মৌচাক হয়ে কমলাপুর এবং খিলক্ষেত-পূর্বাচল কাঞ্চন ব্রীজ পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার এমআরটি লাইন-১ এবং গাবতলী-টেকনিক্যাল-মিরপুর-১, ১০ ও ১৪-বনানী-গুলশান-২ হয়ে ভাটারা পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার এমআরটি লাইন-৫ এর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলমান রয়েছে ।
এমআরটি লাইন-১ এ ৯ কিলোমিটার এবং এমআরটি লাইন-৫ এ ৬ কিলোমিটার মোট ১৫ কিলোমিটার পাতাল রেল নির্মিত হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন- এ দু’টি লাইনের কাজ শেষ হলে নগরীর বেশীর ভাগ স্থানেই দ্রুত, সহজ ও আরামদায়ক পরিবেশে মানুষ যাতায়াত করতে পারবে। এতে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে। অন্যদিকে যানজটের কারণে অপচয় হওয়া থেকে কর্মঘন্টা সাশ্রয় হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গাজীপুরসহ আশপাশের জেলার জনগণের ঢাকা মহানগরীতে যাতায়াত সহজ, পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ ও দ্রুত করার জন্য গাজীপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত বিআরটি লাইন স্থাপনের উদ্যোগ আমি গ্রহণ করি। এ প্রকল্পেরও নির্মাণ কাজ আজ শুরু হতে যাচ্ছে। প্রকল্পটি ডিসেম্বর ২০১৮ সালে সমাপ্ত হবে।
প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন- প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাসভিত্তিক দ্রুতগামী এ গণপরিবহন ব্যবস্থায় প্রতি ঘন্টায় উভয় দিকে ২৫ হাজার যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ঢাকাস্থ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার বিআরটি লাইন-৩ নির্মাণের বিষয়টিও যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকারের সময়ে দেশে ৫ হাজার ছোট ও মাঝারি সেতু এবং ১৪টি বৃহৎ সেতু নির্মাণের পাশাপাশি ২১ হাজার কি.মি. নতুন সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে।